৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলনে নিহত ১১৬ : নারী ১০৬ ও শিশু ৭

সমাাজকাল ডেস্ক:

ভারতের উত্তর প্রদেশের হাতরাস জেলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলনের ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১১৬ জন। এছাড়াও আহত হয়েছে আরও অনেকে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ।

পুলিশের আলীগড় রেঞ্জের মহাপরিদর্শক শলভ মাথুরা জানান, মৃতের সংখ্যা ১১৬। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রার্থনা সভা বা সৎসঙ্গ চলাকালে কয়েক শ’মানুষের উপস্থিতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী ১০৬ ও শিশু ৭ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

এতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, সেখানকার স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে নিহতদের মরদেহ এবং আহতের নিয়ে আসার সময় স্বজনদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা এক নারী এনডিটিভিকে বলেছেন, স্থানীয় ধর্মগুরু ভোলে বাবা ওরফে নারায়ণ সাকার হরির সম্মানে এই আয়োজন করা হয়েছিল। ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকলে পদদলনের ঘটনা ঘটে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি শোক প্রকাশ করেছেন। এ দুর্ঘটনার পর পরই র নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রেপৈদী মুর্মূ নিহতের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, উত্তর প্রদেশ সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরণের সাহায্য প্রদান করবে কেন্দ্রীয় সরকার।

ইতাহ জেলা কর্মকর্তা ডা. উমেশ কুমার ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, তারা ২৮টি মরদেহ পেয়েছেন। এরমধ্যে ২৩ জন নারী ও ৩ শিশু রয়েছে। ।আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আশীষ কুমার বলেছেন, হাতরাস জেলোর সিকান্দ্রা রাও থানার ফূলরাই গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি একটি বেসরকারি আয়োজন ছিল। তবে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে অনুষ্ঠানটি করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আর অন্যান্য ব্যবস্থা আয়োজনকদের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল।

নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলা করা দায়ের করা হবে।

স্বজনদের খুঁজতে পরিবারের সদস্যরা হারতাসের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ছুটছেন। আবার মৃতদেহ শনাক্ত করতেও ছুটছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *