৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজশাহী, চর ও গ্রাম পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ছে

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী এখন দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নিজেদের চাহিদা নিজেরাই মেটাতে পারছে রাজশাহী।

রাজশাহীর খামারগুলোতে বাড়ছে দুধের উৎপাদন। বিশেষ করে চর ও গ্রাম পর্যায়ে দুধের উৎপাদন বাড়ছে।

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহী জেলাতে দুধের চাহিদা ৫ দশমিক ৮ লাখ মেট্রিক টন। রাজশাহীতে গত বছর দুধ উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ৫ লাখ মে.টন করে। চলতি বছরে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে দুধ উৎপাদনকারী গরুর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহীর পদ্মা পাড়ের ধু-ধু বালুচর। প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে নদীর মধ্যেই জেগেছে চর। চরের কিনারে শত শত গরু-ছাগল-মহিষ চরে বেড়াচ্ছে। এ যেন গবাদি পশুর চারণভূমি। সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব চরে গরু-গবাদিপশু চরে বেড়ায়। আর সন্ধ্যা নামলে রাখালরা এসব নিয়ে যায় গরু-মহিষের খামারে। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা বাথানে রাখা হয় শত শত গরু-মহিষ।

রাজশাহী নগরীর পাশ ঘেঁষা পদ্মার ওপারে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চরখিদিরপুরের ১০ নম্বর বা মিডল চর তারই একটি। এই চরে ৩টি বাথানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গরু, মহিষ ও ভেড়া রয়েছে। রাখালরা জানান, গরুর দুধের দাম আগের চেয়ে বাড়ছে। গরুর দুধও বাড়ছে। এজন্য চরে গরুর দুধ উৎপাদন বাড়িয়েছেন মালিকরা। প্রতিদিন ভোর হতেই গরু-মহিষের দুধ দোহানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাখালদের কার্যক্রম। দুধ দোহানো শেষ হলে বাথানে পৌঁছান ঘোষরা। তারা দুধ মাপজোখ করে নিয়ে চলে যান নিজ নিজ গন্তব্যে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আখতার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে যথেষ্ট পরিমাণে গোমাংস ও দুধের উৎপাদন হয়। এই জেলা দুধ ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিশেষ করে দুধের উৎপাদন বাড়ছে।
জানা গেছে, চরে কারও কারও ৫০ থেকে ১০০টি গরু রয়েছে। একেকটি গরুর দাম লাখ টাকার ওপরে। লাভের কারণেই এত চ্যালেঞ্জ নিয়ে গরুর মালিকরা বাথানে গরু রাখেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গরুর দুধ। প্রতিদিনই এখান থেকে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কেজি দুধ তিনি নিয়ে যান। এখান থেকে দুধ পরিবহন কষ্টকর হলেও যেহেতু এই গরু মাঠেই ঘাস খেয়ে দুধ দেয়। তাই এ দুধের চাহিদাও বেশি।

স্থানীয়রা জানান তাদের সমস্যার কথা। তারা বলেন, হাজার হাজার গরুর খাবার প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা অনেক কষ্টকর। তারপরও আগের চেয়ে এখন গরু বেড়েছে। দুধও বেড়েছে। আগে এই চরে সব মিলিয়ে ২০০ গরু দুধ দিত। এখন সেটি বেড়ে অন্তত ৩৫০ থেকে ৫০০ গরু হয়েছে। এসব গরুর দুধের উৎপাদন বাড়লেও আমরা ন্যায্য দাম পাই না। কারণ আমাদের নদী পার হতে হয়। এতেই খরচ বেড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *